মতামত
গদখালীর ফুল: সম্ভাবনা আছে, দরকার সংরক্ষণ ও রপ্তানির পরিকল্পনা
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী আজ দেশজুড়ে ‘ফুলের রাজধানী’ নামে পরিচিত। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস—মাঠের পর মাঠ রঙিন ফুলে ভরা এই জনপদ থেকে প্রতিদিন ফুল যায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে। হাজারো কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীর জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
কিন্তু সম্ভাবনার পাশাপাশি সংকটও কম নয়। বিজয় দিবস, ভালোবাসা দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বিশেষ দিনে চাহিদা বাড়লে দাম ভালো মেলে, অথচ বছরের বাকি সময় দাম পড়ে গেলে ফুল ফেলে দিতে হয় কৃষককে। হিমাগার বা কোল্ড চেইন না থাকায় ফুল একদিনের বেশি ধরে রাখা যায় না। আধুনিক প্যাকেজিং ও দ্রুত পরিবহনের অভাবে বিদেশের বাজারও ধরা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় কয়েকটি উদ্যোগ জরুরি। প্রথমত, গদখালীতে ফুল সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন। দ্বিতীয়ত, রপ্তানিমুখী মানসম্পন্ন জাত, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ। তৃতীয়ত, যশোর বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানির পথ তৈরি। চতুর্থত, ফুলভিত্তিক পর্যটন—মৌসুমে দেশি-বিদেশি পর্যটক টানতে ফুলের মেলা ও অবকাঠামো।
সঠিক পরিকল্পনা পেলে গদখালীর ফুল শুধু যশোর নয়, দেশের অর্থনীতিতেও নতুন রং যোগ করতে পারে। সময় এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
লেখাটি যশোর টুডের সম্পাদকীয় মতামত।